সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঘিওর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পাটাইকোনা এলাকায় ব্যবসায়ী আকবর আলী খানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আকবর আলী খান ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলেন। পরে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা, ট্রাংক ও লকারের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ওই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার, চেকবই ও এটিএম কার্ড চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর ঘিওর থানায় দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় মামলা করেন আকবর আলী খান। মামলার এজাহারে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে তিনটি চেইন, পাঁচ জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, একটি সিতাহার, দুটি আংটি ও একটি ব্রেসলেটসহ অন্যান্য মালামালের কথা উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সামিউলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সামিউলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার সামিউল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার জোনাকী এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মামলার বাদীর মেয়ের স্বামী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সামিউলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর বলেন, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।