প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:২৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো সাশ্রয়ী ডিজিটাল ডায়েট কোচিং প্ল্যাটফর্ম ‘ডায়েটকোচ
দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো সাশ্রয়ী ডিজিটাল ডায়েট কোচিং প্ল্যাটফর্ম ‘ডায়েটকোচ’। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক পুষ্টি ও খাদ্য পরামর্শ প্রদানকারী সেবা, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। একইসঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় (এর মধ্যে ৫ শতাংশ স্থূলতায়) ভুগছেন, আর প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনসম্পন্ন (আন্ডারওয়েট)। অথচ পেশাদার পুষ্টিবিদের সেবা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে একরকম ডায়েট চার্ট সবার জন্য কার্যকর হয় না। এই প্রেক্ষাপটে DietKoach এনেছে প্রযুক্তি নির্ভর, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও বাজেটবান্ধব একটি নতুন সমাধান।
DietKoach-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিকল্পনা: প্রতিটি ব্যবহারকারীর শারীরিক চাহিদা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ডায়েট চার্ট প্রণয়ন ।অ্যাপবিহীন সহজ সেবা: আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না করেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সেবা গ্রহণের সুবিধা।২৪/৭ পুষ্টিবিদ সহায়তা: যেকোনো সময় পুষ্টি-সংক্রান্ত প্রশ্নে তাৎক্ষণিক পরামর্শ প্রদান।মানসিক সহায়তা ও মোটিভেশন: স্ট্রেস বা খাদ্য অনিয়মের ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা এবং প্রতিদিন উদ্বুদ্ধকারী বার্তা প্রদান। নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন: প্রতি সপ্তাহে ওজন, BMI ইত্যাদি পরিমাপ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন। স্থানীয় খাবার ও ঘরোয়া ব্যায়াম ভিত্তিক পরিকল্পনা: ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা জিমের পরিবর্তে দেশীয় খাবার ও সহজ ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উন্নয়ন।
DietKoach-এর সেবা সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক, যার মাসিক প্যাকেজ শুরু হচ্ছে মাত্র ৩৯৯ টাকা থেকে। দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজ গ্রহণ করলে খরচ আরও সাশ্রয়ী হয়।প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “খাদ্যই প্রথম ওষুধ – সুস্থ থাকতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে জরুরি।”প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আলভী আহাদ জানান, “আমরা শুধু ডায়েট চার্ট দিচ্ছি না, বরং গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছি।” উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সমৃদ্ধ মোবাইল অ্যাপ চালুর মাধ্যমে মিল সাজেশন, স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং এবং অভ্যাস গঠনের সেবা যুক্ত করা হবে। এর ফলে DietKoach পরিণত হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের সাধারণ জনগণের জন্য কম খরচে ও সহজ উপায়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: DietKoach ওয়েবসাইট, উপস্থাপনা ফাইল ও কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার
দেশে প্রথমবারের মতো ‘DietKoach’ (ডায়েটকোচ) নামের একটি সাশ্রয়ী ডিজিটাল ডায়েট কোচিং প্ল্যাটফর্ম সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে । উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন পুষ্টি ও খাদ্য পরামর্শ সেবা, যা ওজন কমানো-বাড়ানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা সামগ্রিক সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য লক্ষ্যে ব্যক্তিগত ডায়েট পরিকল্পনা ও ২৪/৭ বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করবে । জীবনধারাজনিত বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধির এই সময়ে, বাংলাদেশে সুলভ পুষ্টি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ অনুভূত হচ্ছে। দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং জনসংখ্যার ৫% এরও বেশি স্থূলতাজনিত সমস্যায় ভুগছেন । অথচ পেশাদার পুষ্টিবিদের পরামর্শ একদিকে ব্যয়বহুল, অন্যদিকে সবার জন্য এক রকম সাধারণ ডায়েট চার্ট ব্যক্তিভেদে বিশেষ সুফল দেয় না । DietKoach এই শূন্যস্থান পূরণে ব্যক্তিগতকৃত এবং সহজলভ্য ডিজিটাল ডায়েট কোচিং সেবা নিয়ে এসেছে। প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য হচ্ছে খাবারের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্থায়ী স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা। ডায়েটকোচ টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুধু ডায়েট চার্ট তৈরি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ভালো অভ্যাস ও উন্নততর জীবনধারা গড়ে তুলতে কাজ করছে ।
অনলাইন এই ডায়েট কোচিং সেবা কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নিজেকে আলাদা করেছে। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতকৃত পরিকল্পনা: DietKoach প্রত্যেক ব্যবহারকারীর দেহের চাহিদা, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী আলাদা ডায়েট পরিকল্পনা তৈরি করে থাকে । এতে প্রতিটি ব্যবহারকারী পান নিজের জন্য উপযোগী পরামর্শ, যা দীর্ঘস্থায়ী ফল দিতে সক্ষম। সহজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: হোয়াটসঅ্যাপের মতো পরিচিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক তার পূর্ণাঙ্গ ডায়েট কোচিং সাপোর্ট পেয়ে যান। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যেখানে থাকে উইজার নিজে এবং সাথে আরো ৩-৪ জন দক্ষ নিউট্রোশনিস্ট এবং মেন্টাল সাপোর্ট টিম। ২৪/৭ বিশেষজ্ঞ সহায়তা: DietKoach সেখানে গ্রাহকদের জন্য দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ পরিষেবা রেখেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে ২৪ ঘণ্টাই পুষ্টিবিদরা প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান মেলে। মানসিক স্বাস্থ্য ও মোটিভেশন: শুধু খাদ্য তালিকা দিয়েই ক্ষান্ত নয়, DietKoach গ্রাহকের মানসিক অনুপ্রেরণাকেও গুরুত্ব দেয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে যেসব মানসিক চ্যালেঞ্জ আসে (যেমন স্ট্রেসের কারণে অতিরিক্ত খাওয়া), তা মোকাবিলায় এখানে মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ প্রদান করা হয়। নিয়মিত আপডেট এবং ট্র্যাকিং: প্রতি সপ্তাহে ওজন, বিএমআই প্রভৃতি সূচক পরিমাপ করে অগ্রগতি যাচাই করা হয় এবং প্রয়োজনে খাদ্য পরিকল্পনা ও রুটিনে সমন্বয় আনা হয় । এই নিয়মিত ট্র্যাকিং গ্রাহককে সুস্থ গতিতে লক্ষ্য অর্জনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে সাহায্য করে। ঘরোয়া ব্যায়াম ও স্থানীয় খাদ্যের ওপর জোর: এই প্ল্যাটফর্মে জিমের পরিবর্তে ঘরে সহজে করা যায় এমন ব্যায়ামকে উৎসাহিত করা হয় এবং ডায়েট চার্টে স্থানীয় ও ঘরোয়া খাবারকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কোনো ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা কঠোর ডায়েট পিলের আশ্রয় না নিয়ে প্রাকৃতিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে স্বাস্থ্যোন্নয়নে লক্ষ্য স্থির করা হয় ।
তাদের সাবস্ক্রিপশনমূলক মডেলে এক মাসের প্রোগ্রাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৩৯৯ টাকা থেকে । সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করতে গেলে প্রতি সেশনেই বেশ খরচ হয় এবং নিয়মিত সে সেবা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে থাকে । সে তুলনায় DietKoach-এর এই সাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতি দেশের অনেক বেশি মানুষকে পেশাদার পুষ্টি পরামর্শ সেবার আওতায় আনতে সক্ষম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুরুতে ওজন ব্যবস্থাপনার ওপর কেন্দ্রিত হলেও, DietKoach শীঘ্রই তাদের সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির পুষ্টিবিদ দল বিশেষভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, PCOS ইত্যাদি ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের জন্য পৃথক ডায়েট পরিকল্পনা উন্নয়নে কাজ করছে । পাশাপাশি, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপনির্ভর এই সেবাকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করতে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি হচ্ছে। সেই অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক মিল পরামর্শ, অগ্রগতি ট্র্যাকিং এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরির ফিচার যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে । এ পদক্ষেপগুলো DietKoach-কে ওজন নিয়ন্ত্রণের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্য সহায়তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে সাহায্য করবে। যা আমাদের জানিয়েছেন ‘ডায়েটকোচ’ প্ল্যাটফর্মটির সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আলভী আহাদ।
আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিনহাজুল ইসলাম জানান, “খাদ্যই প্রথম ওষুধ” – সুস্থ থাকতে সবার আগে খাদ্যাভ্যাসেই পরিবর্তন আনা জরুরি। এই দর্শনকে সামনে রেখে DietKoach প্রতিটি পরিবারে ব্যবহারিক ও স্থায়ী পুষ্টি-সমাধান পৌঁছে দিতে চায় । দেশের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতন জনগণের জন্য এই ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ, যা প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যক্তিগত যত্নের মাধ্যমে সুস্থ জীবনধারার পথ তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: DietKoach ওয়েবসাইট ও উপস্থাপনা ফাইল, এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্র