ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬ নম্বর নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং চৌকিদারি ট্যাক্স আদায়ের নামে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সচিবের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় নান্নার ইউনিয়নের সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাজিরা খাতায় জালিয়াতি ও সেবা বিঘ্নিত
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সচিব শারমিন আক্তার সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিসে আসেন। বাকি দিনগুলোতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া যায় না। অথচ সরকারি হাজিরা খাতায় তার পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর রয়েছে, যা স্পষ্ট জালিয়াতি। সচিবের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন জরুরি নাগরিক সেবা থমকে দাঁড়িয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও কোনো সেবা পাচ্ছেন না।
রসিদ ছাড়াই চৌকিদারি ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায়
নিয়মিত অফিস না করলেও ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারি ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি কোনো বিধিমালা বা রসিদ ছাড়াই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার, এমনকি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায় করা এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
আইন লঙ্ঘনের মহোৎসব
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, জনগণকে নিয়মিত সেবা দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। আইনজ্ঞদের মতে, হাজিরা সংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য দেওয়া এবং রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা বিভাগীয় শাস্তিমূলক অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত, কর্তৃপক্ষের নীরবতায় ক্ষোভ
সচিব শারমিন আক্তারের এই স্বেচ্ছাচারিতা ও অনুপস্থিতি নিয়ে অতীতেও একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সচিব কোনো সদুত্তর বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তদন্তের পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।